পানাহারের আদব (খাওয়া-দাওয়ার শিষ্টাচার)
ইসলামে পানাহারের কিছু আদব ও শিষ্টাচার রয়েছে, যা সুন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
“রাসূলুল্লাহﷺ কখনও খাদ্যের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতেন না;তাঁর রুচিসম্মত হলে খেতেন; আর রুচিসম্মত না হলে খেতেন না। -সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৫৪০৯
একাকি না খেয়ে কোনো মেহমান, পরিবার, সন্তান, অথবা খাদেমকে সাথে নিয়ে খাওয়াঃ-
কেননা, হাদিসে এসেছে, নবী ﷺ বলেন: “তোমরা সম্মিলিতভাবে তোমাদের খাবার খাও এবং আল্লাহর নামে খাও, দেখবে তোমাদের খাদ্যে বরকত হবে। -সুনানে আবূ দাউদ, হাদিস নং- ৩৭৬৬
পানাহারের পূর্বে:
- বিসমিল্লাহ বলা – খাবার শুরু করার আগে “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম” বলা সুন্নত।
- ডান হাত ব্যবহার করা – রাসূল (সা.) ডান হাতে খাবার খেতে নির্দেশ দিয়েছেন।
- পরিষ্কার থাকা – খাবার খাওয়ার আগে হাত ধোয়া উত্তম।
- হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণ – হারাম ও সন্দেহজনক খাবার পরিহার করা জরুরি।
পানাহারের সময়:
- অল্প খাওয়া – অত্যধিক না খেয়ে পরিমিত খাবার খাওয়া উচিত।
- নিজের সামনে থেকে খাওয়া – থালার মাঝখান থেকে না নিয়ে নিজের সামনে থেকে খাওয়া সুন্নত।
- চুপচাপ ও মনোযোগ দিয়ে খাওয়া – খাবার সময় অহেতুক কথা বলা ও হাসাহাসি করা উচিত নয়।
- অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা – একসঙ্গে খাবার খেলে অন্যদের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।
পানাহারের পরে:
- আলহামদুলিল্লাহ বলা – খাবার শেষে “আলহামদুলিল্লাহ” বলা উচিত।
- হাত ধোয়া ও কুলি করা – দাঁত ও মুখ পরিষ্কার রাখা সুন্নত।
- অতিরিক্ত নষ্ট না করা – খাবার নষ্ট না করে অবশিষ্ট অংশ যতটা সম্ভব শেষ করা উচিত।
পানাহারের কিছু বিশেষ আদব:
- তিন আঙুল দিয়ে খাওয়া (যদি হাত দিয়ে খাওয়া হয়)।
- বসে খাওয়া (হাঁটু গেড়ে বা মাটিতে বসা সুন্নত)।
- পানির মধ্যে ফুঁ না দেওয়া ও এক ঢোকে না খাওয়া।
- অন্যদের আগে না খেয়ে অপেক্ষা করা, বিশেষত যদি মেহমান থাকে।
এই আদবগুলো পালন করলে খাবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হয় এবং স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
আল্লাহ তায়ালা আমল করার তাওফিক দান করুন।