ভূমি জরিপ হল ভূমির সীমানা, আকার, অবস্থান ও অন্যান্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া। এটি মূলত ভূমি ব্যবস্থাপনা, নির্মাণ প্রকল্প, কৃষি উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা এবং রিয়েল এস্টেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ভূমি জরিপের প্রকারভেদ:
ভূমি জরিপ বিভিন্ন উদ্দেশ্যে করা হয় এবং তা বিভিন্ন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়।
- ভৌত জরিপ (Cadastral Survey) – জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণের জন্য করা হয়।
- টপোগ্রাফিক জরিপ (Topographic Survey) – ভূমির উচ্চতা, ঢাল, নদী-খাল ইত্যাদি চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হয়।
- ইঞ্জিনিয়ারিং জরিপ (Engineering Survey) – সড়ক, ব্রিজ, বিল্ডিং নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমির পরিমাপ করা হয়।
- জিওডেটিক জরিপ (Geodetic Survey) – বৃহৎ এলাকা ও পৃথিবীর আকৃতি নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- ফটোগ্রামমেট্রিক জরিপ (Photogrammetric Survey) – ড্রোন ও স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে জরিপ করা হয়।
ভূমি জরিপের প্রধান পদ্ধতি:
১. প্রাচীন পদ্ধতি:
- চেইন সার্ভে – চেইন ও টেপ ব্যবহার করে জমি পরিমাপ করা হয়।
- কম্পাস সার্ভে – কম্পাসের সাহায্যে দিক ও কোণ পরিমাপ করা হয়।
- লেভেলিং – ভূমির উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়।
২. আধুনিক প্রযুক্তি:
- Total Station – লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চ নির্ভুলতা সহ ভূমি পরিমাপ করা হয়।
- GPS (Global Positioning System) – স্যাটেলাইট ডাটা ব্যবহার করে জরিপ করা হয়।
- GIS (Geographic Information System) – ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি ও বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
ভূমি জরিপের ব্যবহার:
✔ ভূমি মালিকানা ও রেকর্ড সংরক্ষণ
✔ রাস্তা, ব্রিজ ও বিল্ডিং নির্মাণ
✔ কৃষিজমির উন্নয়ন পরিকল্পনা
✔ বনজ সম্পদের মানচিত্রায়ণ
✔ শিল্প ও আবাসন প্রকল্প পরিকল্পনা
বাংলাদেশে বিগত দিনে হয়ে যাওয়া জরিপ সমূহ:
- CS ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে
- SA স্টেট একুইজিশন
- RS রিভিশনাল সার্ভে
- BS বাংলাদেশ সার্ভে